আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস (Fitch Ratings) ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে বর্তমান অর্থবর্ষের জন্য ৬.৯ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা পূর্বে ৬.৫ শতাংশ অনুমান করা হয়েছিল। এই শক্তিশালী ফলাফলের কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা, ক্রমবর্ধমান প্রকৃত আয় এবং ভোক্তা ব্যয়ের উল্লম্ফনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফিচের মতে, সহজ আর্থিক পরিবেশ বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। তারা আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬.৩ শতাংশ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে ৬.২ শতাংশে স্থিতিশীল হবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, এর প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন জানিয়েছেন যে, এই শুল্কের কারণে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি ০.৫-০.৬ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে, তবে এটি একটি স্বল্পস্থায়ী ঘটনা হবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের জিডিপি ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উভয়েই বাণিজ্য বাধা নিরসনে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন যে, উভয় দেশ বাণিজ্য বাধা মোকাবিলায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় আছেন। মোদিও এর উত্তরে বলেছেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং স্বাভাবিক অংশীদার এবং বাণিজ্য আলোচনা দুই দেশের সীমাহীন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।
অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ভারত সরকার শতাধিক ভোগ্যপণ্যে কর হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) কাঠামো সহজ করে চার স্তরের পরিবর্তে দুই স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। টুথপেস্ট ও শ্যাম্পুর ওপর কর ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এবং ছোট গাড়ি, এয়ার কন্ডিশনার ও টেলিভিশনের ওপর কর ২৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এই সংস্কারগুলি ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং এটি অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বৃদ্ধি করে দেশের জিডিপিতে ০.২-০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, একটি সমীক্ষা বলছে যে ভারত আগামী কয়েক দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করবে এবং ২০৩৮ সালের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতা সমতা (PPP) অনুযায়ী ৩৪.২ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। জনসংখ্যাগত সুবিধা, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সুসংহত আর্থিক নীতি এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ।